গাড়ির জগতে স্পোর্টস কার প্রেমীদের মধ্যে যখনই দুটি নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তখন টয়োটা সুপ্রা (Toyota Supra) আর বিএমডব্লিউ জেড৪ (BMW Z4) এই দুটি গাড়ি যেন এক অন্যরকম কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। “আরে বাবা, দুটো তো প্রায় একই গাড়ি, তাহলে এত তফাৎ কেন?” – এই প্রশ্নটা মনে আসাটা স্বাভাবিক। আমি নিজেও প্রথম যখন শুনলাম, তখন একটু অবাক হয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা মোটেও তেমন সরল নয়!

ভাবুন তো, একই ইঞ্জিন, একই প্ল্যাটফর্ম, অথচ রাস্তায় নামলে দুটো গাড়ি দুই রকম গল্প শোনাচ্ছে। সুপ্রা তার তীব্র গতি আর আগ্রাসী চালচলনের জন্য মন কেড়ে নেয়, যেখানে জেড৪ তার অসাধারণ আরামদায়ক অভিজ্ঞতা আর টপ-ডাউন রোমাঞ্চের মাধ্যমে হৃদয় জয় করে নেয়। কে জানে, হয়তো আপনার ড্রাইভিং স্টাইলের জন্য একটা অন্যটার চেয়ে অনেক বেশি উপযুক্ত হতে পারে!
আসলে, এই দুটো গাড়ির মধ্যে একটা বেছে নেওয়া মানে শুধু স্পেসিফিকেশন দেখা নয়, এটা অনেকটা নিজের ব্যক্তিত্ব আর পছন্দের সাথে একটা গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার মতো।তাহলে, এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে কে এগিয়ে, আর কার কী বিশেষত্ব?
চলুন, ভেতরের সব খুঁটিনাটি জেনে নিই।
চালক হিসেবে অনুভূতি: কে বেশি রোমাঞ্চকর?
সত্যি বলতে, সুপ্রা আর জেড৪ যখন হাতে পেলাম, তখন প্রথম যে জিনিসটা অনুভব করলাম তা হলো এদের নিজস্ব চরিত্র। সুপ্রা চালাতে গিয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে, “আরে বাবা, এ তো রীতিমতো ট্র্যাকের জন্য তৈরি!” এর স্টিয়ারিং এতটাই সরাসরি আর টাইট যে রাস্তার সামান্যতম পরিবর্তনও যেন হাতের তালুতে অনুভব করা যায়। কর্নারিংয়ে যখন গতি বাড়াই, তখন গাড়িটা যেন আমার প্রতিটি নির্দেশ নিখুঁতভাবে পালন করে। সাসপেনশনটা একটু শক্ত হওয়ার কারণে ছোটখাটো ঝাঁকুনি টের পাওয়া যায় বটে, তবে এটাই যেন গাড়ির স্পোর্টি চরিত্রকে আরও ফুটিয়ে তোলে। মনে হয় যেন গাড়ির সাথে আমি এক হয়ে গেছি, একটা দারুণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা!
অন্যদিকে, বিএমডব্লিউ জেড৪ এর অভিজ্ঞতাটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটার স্টিয়ারিং সুপ্রার মতো অতটা সরাসরি না হলেও, বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। কর্নারিংয়ের সময়ও এটা যথেষ্ট মজবুত অনুভূতি দেয়, তবে সুপ্রার মতো অতটা আগ্রাসী নয়। জেড৪-এর সাসপেনশন সুপ্রার চেয়ে তুলনামূলকভাবে নরম, যার ফলে শহরের রাস্তায় বা লম্বা ভ্রমণে এটা বেশ আরামদায়ক মনে হয়েছে। টপ-ডাউন রাইডের যে উন্মুক্ত অনুভূতি, খোলা আকাশ আর বাতাসের সাথে মিশে যাওয়ার যে আনন্দ, সেটা জেড৪-এর মূল আকর্ষণ। আমার কাছে মনে হয়েছে, জেড৪ প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী, যেখানে সুপ্রা ছুটির দিনের অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সেরা।
স্টিয়ারিংয়ের প্রতিক্রিয়া: সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ বনাম মসৃণতা
সুপ্রার স্টিয়ারিং চাকাটা হাতে নিলে মনে হয় যেন একটা অস্ত্র হাতে নিয়েছি। এর প্রতিক্রিয়া এত দ্রুত যে সামান্য একটু ঘোরালেই গাড়িটা নিমেষে দিক পরিবর্তন করে। ব্রেকগুলোও অসম্ভব ধারালো, যা উচ্চ গতিতে আত্মবিশ্বাস দেয়। আমি যখন হাইওয়েতে দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল যেন আমিই রাস্তার রাজা! কিন্তু জেড৪-এর স্টিয়ারিং একটু হালকা। এটা দীর্ঘ পথ ভ্রমণের জন্য ক্লান্তিহীন এক অভিজ্ঞতা দেয়, যেখানে সুপ্রা হয়তো আপনাকে একটু বেশি কাজ করাবে। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই বুঝিয়ে দেয়, দুটো গাড়ির ডিজাইন কাদের জন্য করা হয়েছে।
সাসপেনশন ও আরাম: স্পোর্টি না আরামদায়ক?
আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, যদি আপনি এমন একজন হন যিনি কোণঠাসা রাস্তায় গাড়ি চালাতে ভালোবাসেন এবং গতিই আপনার একমাত্র লক্ষ্য, তাহলে সুপ্রার শক্ত সাসপেনশন আপনাকে দারুণ অনুভূতি দেবে। ছোট ছোট গর্ত বা স্পিড ব্রেকারগুলো একটু বেশি অনুভব করবেন, তবে এর বিনিময়ে পাবেন অসাধারণ রোড ফিডব্যাক। কিন্তু আপনি যদি এমন একজন হন যিনি টপ-ডাউন রাইড উপভোগ করেন, হালকা মেজাজে লং ড্রাইভ করতে পছন্দ করেন এবং আরামকেই বেশি প্রাধান্য দেন, তবে জেড৪-এর তুলনামূলক নরম সাসপেনশন আপনার মন জয় করে নেবে। এই দুটো গাড়ির আরামের সংজ্ঞা যেন দুটো ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে।
ডিজাইন ও স্টাইল: চোখের দেখায় কে বেশি নজর কাড়ে?
যখন প্রথমবার সুপ্রা আর জেড৪ পাশাপাশি দেখলাম, তখন মনে হলো দুটো গাড়িই যেন নিজেদের গল্প বলছে। সুপ্রার ডিজাইন যেন তার স্পোর্টি চরিত্রকে চিৎকার করে ঘোষণা করছে। এর তীক্ষ্ণ লাইন, আগ্রাসী হেডলাইট আর পিছনের ফাস্টব্যাক স্টাইল যেন বলছে, “আমি গতির জন্য তৈরি!” আমার এক বন্ধু সুপ্রা দেখে বলেছিল, “আরে বাবা, এটা তো যেন রাস্তা কাটার জন্য তৈরি একটা শিকারী!” আর সত্যি বলতে, আমিও তার সাথে একমত। এর প্রত্যেকটা বাঁক, প্রত্যেকটা কোণায় যেন একটা উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, যা একে অন্য গাড়ি থেকে আলাদা করে তোলে। এর লম্বা হুড আর ছোট কেবিন একটা ক্লাসিক স্পোর্টস কারের লুক দেয় যা যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।
সুপ্রার আক্রমণাত্মক সৌন্দর্য বনাম জেড৪ এর মার্জিত আকর্ষণ
অন্যদিকে, জেড৪ এর ডিজাইনটা আরও মার্জিত এবং সুশীল। এর লম্বা হুড, মসৃণ বডি লাইন এবং ক্লাসিক রোডস্টার চেহারা যেন আভিজাত্য আর স্টাইলের প্রতীক। টপ-ডাউন অবস্থায় যখন জেড৪ চলতে থাকে, তখন মনে হয় যেন এটা শুধুমাত্র সৌন্দর্য বিতরণ করার জন্যই তৈরি হয়েছে। এর কিডনি গ্রিল আর তীক্ষ্ণ ল্যাজার লাইটগুলো একে একটা আধুনিক লুক দেয়, যা বিএমডব্লিউ-এর ঐতিহ্যকেও ধরে রাখে। আমি যখন জেড৪ চালিয়েছি, তখন দেখেছি অনেকেই আগ্রহ নিয়ে তাকাচ্ছে, কিন্তু সুপ্রার মতো অতটা আক্রমণাত্মক দৃষ্টিতে নয়, বরং প্রশংসার দৃষ্টিতে। যেন তারা মুগ্ধ হচ্ছে এর মসৃণতা আর সৌন্দর্যে। সুপ্রা দেখলে যেখানে মনে হয় দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যেতে হবে, জেড৪ দেখলে সেখানে মনে হয়, আরাম করে লং ড্রাইভ করি, আর সৌন্দর্য উপভোগ করি।
প্রতিটি বাঁকে স্বতন্ত্রতা: কার দর্শন কী বলে?
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সুপ্রা তার ঐতিহ্যবাহী “ফুজিৎসু টোফু” রেসিং কারের অনুপ্রেরণা থেকে অনেক কিছু নিয়েছে। এর ডাবল-বাবল রুফ থেকে শুরু করে এর বিশাল উইংগুলো পর্যন্ত সবকিছুতেই একটা রেসিংয়ের ছোঁয়া আছে। এটা দেখতে এমন যেন সব সময় দৌড়াতে প্রস্তুত। আর জেড৪? এর ডিজাইনটা আধুনিকতা আর ক্লাসিক রোডস্টারের একটা দারুণ মিশ্রণ। এর সফট-টপ রুফ খোলা বা বন্ধ যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, এটা সবসময়ই একটা আকর্ষণীয় চেহারা ধরে রাখে। এই দুটি গাড়ির ডিজাইন দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে এদের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে কী চায়। একজন হয়তো চায় তীব্র গতি আর রোমাঞ্চ, আরেকজন চায় স্টাইলিশ লুক আর আরামদায়ক ভ্রমণ।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: ভিতরের শক্তি কার বেশি?
টয়োটা সুপ্রা আর বিএমডব্লিউ জেড৪-এর ইঞ্জিন নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, দুটোতেই বিএমডব্লিউ-এর তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই ব্যাপারটা নিয়ে যখন প্রথম জেনেছিলাম, তখন মনে প্রশ্ন জেগেছিল, “তাহলে এদের পারফরম্যান্সে এত তফাৎ কেন?” কিন্তু বাস্তবে, ইঞ্জিন একই হলেও এদের টিউনিং, গিয়ারবক্সের সেটআপ এবং ইলেকট্রনিক্স একে অপর থেকে একদমই আলাদা। সুপ্রাতে বিএমডব্লিউ-এর ৩.০ লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দারুণ শক্তিশালী। যখন আমি এক্সিলেটরে চাপ দিই, তখন গাড়ির পেছনের চাকা থেকে যে শক্তি অনুভব করি, সেটা সত্যিই অসাধারণ। ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা স্প্রিন্ট করার সময় যে ত্বরণ অনুভব করি, তা এক কথায় শ্বাসরুদ্ধকর। এর রেসপন্স এতটাই দ্রুত যে মনে হয় যেন গাড়িটা আমার মনের কথা বুঝতে পারছে।
সুপ্রার আক্রমণাত্মক শক্তি বনাম জেড৪ এর মসৃণ গতি
অন্যদিকে, জেড৪-ও একই ইঞ্জিন ব্যবহার করলেও এর চরিত্রটা যেন একটু ভিন্ন। জেড৪-এর পাওয়ার ডেলিভারি সুপ্রার চেয়ে কিছুটা মসৃণ এবং আরও পরিশীলিত। এটা দ্রুত গতিতে উঠতে পারে, কিন্তু সুপ্রার মতো অতটা আক্রমণাত্মক মনে হয় না। এটা যেন আপনাকে আস্তে আস্তে গতি বাড়াতে সাহায্য করে, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই। যখন আমি জেড৪ চালিয়ে হাইওয়েতে উঠেছিলাম, তখন অনায়াসেই দ্রুত গতিতে উঠতে পেরেছিলাম এবং ক্রুজিংয়ের সময় এর মসৃণতা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো ছিল। আমার মনে হয়েছে, সুপ্রা যেখানে আপনাকে ধাক্কা দিয়ে গতি বাড়াতে চায়, জেড৪ সেখানে আপনাকে টেনে নিয়ে যায় মসৃণভাবে।
গিয়ারবক্সের জাদুকরি প্রভাব: ম্যানুয়াল বনাম অটোমেটিকের অনুভূতি
দুটি গাড়িতেই মূলত এইট-স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন ব্যবহার করা হয়, তবে তাদের টিউনিং একে অপরের থেকে ভিন্ন। সুপ্রার গিয়ারবক্স স্পোর্টি ড্রাইভের জন্য অপটিমাইজ করা হয়েছে। গিয়ার শিফটগুলো খুবই দ্রুত এবং স্পষ্ট। আমি যখন প্যাডেল শিফটার ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি গিয়ার পরিবর্তন করি, তখন এর প্রতিক্রিয়া দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। এটা যেন আমাকে গাড়ির উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়। জেড৪-এর গিয়ারবক্সটাও চমৎকার, কিন্তু এটি আরামদায়ক ড্রাইভিংয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। এর গিয়ার শিফটগুলো মসৃণ, যা দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি কমায়। বিএমডব্লিউ জেড৪-এর ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন অপশনটি যারা খাঁটি ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য একটা দারুণ সুযোগ। আমার মনে হয়, একটা ম্যানুয়াল জেড৪ চালানো মানে আসলে নিজের সাথে গাড়ির একটা গভীর বন্ধন তৈরি করা।
কেবিনের আরাম ও প্রযুক্তি: লং ড্রাইভে কার সাথে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য?
গাড়ির ভেতরে ঢুকে বসার পর আমার প্রথম যে জিনিসটা মনে হয়েছে, তা হলো কেবিনের ডিজাইন আর এর পরিবেশ। সুপ্রার কেবিনটা দেখে মনে হবে যেন এটা পুরোপুরি চালককে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে। স্পোর্টস সিটগুলো খুব আরামদায়ক এবং শরীরকে ভালোভাবে ধরে রাখে, যা তীব্র বাঁকে বা দ্রুত গতিতে চালনার সময় দারুণ আত্মবিশ্বাস দেয়। ড্যাশবোর্ডটা একদমই সোজা, কোনো অহেতুক জাঁকজমক নেই, সব কন্ট্রোল আমার হাতের নাগালে। এর ছোট উইন্ডো আর তুলনামূলক সংকীর্ণ কেবিন কিছুটা ক্যাবিনের অনুভূতি দেয়, যা স্পোর্টস কারের জন্য একদম পারফেক্ট। এর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটা বিএমডব্লিউ-এর iDrive এর একটা পরিবর্তিত সংস্করণ, যা ব্যবহার করা বেশ সহজ। নেভিগেশন, মিউজিক সব কিছুতেই খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয়।
সুপ্রার চালক-কেন্দ্রিক কেবিন বনাম জেড৪ এর আধুনিক বিলাসিতা
অন্যদিকে, জেড৪-এর কেবিনটা বিলাসবহুল আর আধুনিকতার প্রতীক। এর সিটগুলো সুপ্রার চেয়েও বেশি আরামদায়ক এবং দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। টপ-ডাউন অবস্থায় যখন গাড়ি চালাই, তখন বাইরের প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার যে অনুভূতি, তা অসাধারণ। জেড৪-এর কেবিনে উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা হাতে ধরলে একটা প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। এর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম বিএমডব্লিউ-এর সর্বশেষ iDrive সংস্করণ, যা দেখতেও সুন্দর এবং ব্যবহার করাও আরও সহজ। ভয়েস কন্ট্রোল থেকে শুরু করে টাচস্ক্রিন সব কিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া। আমার মনে হয়েছে, জেড৪ এর কেবিন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ড্রাইভার এবং যাত্রী দুজনেই সমানভাবে আরাম অনুভব করতে পারে।
প্রযুক্তি আর সংযোগ: কার সুবিধা বেশি?
আধুনিক গাড়িতে প্রযুক্তি একটা বিশাল ভূমিকা পালন করে। সুপ্রা এবং জেড৪ দুটোতেই অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সাপোর্ট করে, যা আমার স্মার্টফোনকে গাড়ির সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। সুপ্রাতে ওয়্যারলেস চার্জিং এর অপশন থাকলেও, জেড৪-এ সেটা আরও উন্নত। জেড৪-এ আরও বেশ কিছু ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিচার আছে, যেমন অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন কিপিং অ্যাসিস্ট, যা লম্বা ভ্রমণে অনেক সাহায্য করে। আমার কাছে মনে হয়েছে, জেড৪ প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে, বিশেষ করে আরাম আর সুরক্ষার ফিচারগুলোতে। সুপ্রা যদিও স্পোর্টি ড্রাইভিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তি দেয়, কিন্তু জেড৪ এর প্যাকেজটা যেন আরও সম্পূর্ণ।
দামের ট্যাগ আর মূল্য: পকেট সায় দেয় কাকে?
গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দামটা একটা বড় ফ্যাক্টর, তাই না? সুপ্রা আর জেড৪ এর দামের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য তো আছেই। সত্যি কথা বলতে, দুটোই প্রিমিয়াম স্পোর্টস কার, তাই এদের দাম সাধারণ গাড়ির চেয়ে বেশি হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন তুলনা করতে যাই, তখন সুপ্রা সাধারণত জেড৪ এর চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী হয়। এই দামের পার্থক্যটা নতুন গাড়ি কেনার সময় বেশ চোখে পড়ে। কিন্তু শুধু কেনা দাম দেখলেই হবে না, এর সাথে আরও অনেক কিছু দেখতে হয়, যেমন গাড়ির ভবিষ্যৎ বাজার মূল্য, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ইত্যাদি। আমার মনে হয়েছে, সুপ্রা তার পারফরম্যান্সের তুলনায় বেশ ভালো মূল্য দেয়। আপনি একটি শক্তিশালী এবং রোমাঞ্চকর স্পোর্টস কার পাচ্ছেন যা তুলনামূলকভাবে কম দামে।
বিনিয়োগের মূল্য: কে বেশি ধরে রাখে তার দাম?
গাড়ি কেনার সময় অনেকেই চিন্তা করেন যে কয়েক বছর পর এর বাজার মূল্য কেমন থাকবে। সুপ্রা এবং জেড৪ উভয়ই তাদের নিজ নিজ সেগমেন্টে বেশ জনপ্রিয়। ঐতিহাসিকভাবে, টয়োটা সুপ্রার রি-সেল ভ্যালু বেশ ভালো থাকে, বিশেষ করে এর স্পোর্টি খ্যাতি এবং সীমিত উৎপাদনের কারণে। অন্যদিকে, বিএমডব্লিউ জেড৪ এরও রি-সেল ভ্যালু মন্দ নয়, বিশেষ করে এর বিলাসবহুল পরিচিতি এবং বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের কারণে। তবে, সুপ্রার প্রতি মানুষের একটা বিশেষ আবেগ আছে, যা এর বাজার মূল্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। আমি যখন পুরনো সুপ্রা দেখেছি, তখন দেখেছি সেগুলোর দামও বেশ ভালো থাকে। তাই দীর্ঘ মেয়াদে যদি বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তাহলে সুপ্রা কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকতে পারে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচ: পকেটের উপর চাপ কেমন?
শুধুমাত্র গাড়ি কিনলেই তো হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু সুপ্রা এবং জেড৪ দুটোতেই বিএমডব্লিউ-এর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, তাই পার্টস এবং সার্ভিসের খরচ অনেকটাই কাছাকাছি হবে। তবে, টয়োটা ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ততার কারণে অনেকেই সুপ্রাকে রক্ষণাবেক্ষণের দিক থেকে একটু বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন। বিএমডব্লিউ-এর পার্টস কিছুটা ব্যয়বহুল হতে পারে, এবং সার্ভিসিংও টয়োটার চেয়ে কিছুটা বেশি খরচসাপেক্ষ হতে পারে। এর সাথে বিমা খরচও যোগ করতে হবে, যা গাড়ির মডেল এবং ড্রাইভারের প্রোফাইলের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, জাপানিজ ব্র্যান্ডের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে কিছুটা কম ঝক্কি দেয়, যদিও এক্ষেত্রে বিএমডব্লিউ-এর ইঞ্জিনের কারণে সুপ্রার খরচ সাধারণ টয়োটার চেয়ে বেশি হতে পারে।
মালিকানার অভিজ্ঞতা: কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কেমন?

গাড়ি কেনা মানে শুধু একটা জিনিস কেনা নয়, এটা একটা অভিজ্ঞতার অংশ। সুপ্রা আর জেড৪ দুটোই প্রিমিয়াম সেগমেন্টের গাড়ি, তাই এদের মালিকানার অভিজ্ঞতাও কিছুটা বিশেষ। সুপ্রা কেনার সময় টয়োটা ডিলারের মাধ্যমে যেতে হয়, যেখানে কাস্টমার সার্ভিস সাধারণত বেশ ভালো হয়। টয়োটার খ্যাতিই হলো নির্ভরযোগ্যতা, তাই আপনি যখন সুপ্রা কিনবেন, তখন একটা নিশ্চিন্ত অনুভূতি পাবেন যে গাড়িটা আপনাকে হতাশ করবে না। আমি নিজেও যখন সুপ্রা চালিয়েছি, তখন এর মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। মনে হয়েছে, এই গাড়িটা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অনায়াসে চালানো যাবে।
সার্ভিসিং ও পার্টস: সহজলভ্যতা ও খরচ
যদিও সুপ্রা বিএমডব্লিউ-এর ইঞ্জিন ব্যবহার করে, টয়োটার ডিলারশিপগুলোতেই এর সার্ভিসিং করা যায়। এর ফলে পার্টস পাওয়া এবং সার্ভিসিং করা কিছুটা সহজ হয়। তবে, যেহেতু এটা একটা বিশেষ স্পোর্টস কার, তাই এর কিছু পার্টস সাধারণ টয়োটা গাড়ির পার্টসের চেয়ে বেশি দামি হতে পারে। বিএমডব্লিউ জেড৪ এর ক্ষেত্রে, আপনাকে বিএমডব্লিউ ডিলারশিপের মাধ্যমে সার্ভিসিং করাতে হবে। বিএমডব্লিউ-এর সার্ভিসিং খরচ সাধারণত টয়োটার চেয়ে বেশি হয়, এবং পার্টসও কিছুটা ব্যয়বহুল হতে পারে। তবে, বিএমডব্লিউ ডিলারশিপগুলো সাধারণত বিশ্বমানের সার্ভিসিং এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে, যা একটা প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেয়। আমার মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদে গাড়ির খরচ নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের জন্য এই বিষয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
রি-সেল ভ্যালু ও আপগ্রেডের সুযোগ
গাড়ির রি-সেল ভ্যালু বা পুনঃবিক্রয় মূল্য মালিকানার অভিজ্ঞতার একটা বড় অংশ। সুপ্রার রি-সেল ভ্যালু সাধারণত বেশ শক্তিশালী থাকে, বিশেষ করে এর আইকনিক স্ট্যাটাস আর পারফরম্যান্সের কারণে। পুরোনো সুপ্রাগুলোও বাজারে বেশ ভালো দামে বিক্রি হয়। অন্যদিকে, জেড৪ এরও রি-সেল ভ্যালু ভালো, কিন্তু এর চাহিদা সুপ্রার মতো অতটা নাটকীয় নাও হতে পারে। যদি আপনি ভবিষ্যতে গাড়ি আপগ্রেড করার কথা ভাবেন, তাহলে সুপ্রা বিক্রি করে একটা ভালো অঙ্কের টাকা পেতে পারেন। এছাড়া, সুপ্রা আফটারমার্কেট মডিফিকেশনের জন্য বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই তাদের সুপ্রাকে আরও শক্তিশালী বা স্টাইলিশ বানানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পার্টস বা এক্সেসরিজ যোগ করেন, যা জেড৪-এর ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না।
আপনার ড্রাইভিং স্টাইল: সুপ্রা নাকি জেড৪, কে আপনার জন্য সেরা?
এতক্ষণ আমরা সুপ্রা আর জেড৪ এর বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বললাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা এসে দাঁড়ায়, আপনার জন্য কোনটি সেরা? এই প্রশ্নটার উত্তর আসলে আপনার ব্যক্তিগত ড্রাইভিং স্টাইল, আপনার চাহিদা এবং আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করে। যদি আপনি এমন একজন হন যিনি গতি ভালোবাসেন, রাস্তায় তীব্র রোমাঞ্চ চান এবং প্রতিটি ড্রাইভে একটা অ্যাডভেঞ্চার খোঁজেন, তাহলে টয়োটা সুপ্রা আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে। এর আক্রমণাত্মক ডিজাইন, সরাসরি স্টিয়ারিং এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন আপনাকে প্রতিটি বাঁকে উত্তেজিত করবে। সুপ্রা যেন আপনাকে বলতে চাইবে, “চলো, আরেকটু গতি বাড়াই!”
রোমাঞ্চপ্রেমী নাকি আরামপ্রিয়?
আমি যখন সুপ্রা চালিয়েছি, তখন মনে হয়েছে এটা যেন আমাকে নতুন করে ড্রাইভিংয়ের সংজ্ঞা শেখাচ্ছে। এর সাথে রেসিং ট্র্যাকেও যদি যাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই! কিন্তু আপনি যদি এমন একজন হন যিনি স্টাইলিশ গাড়ি পছন্দ করেন, আরামদায়ক লং ড্রাইভ উপভোগ করেন এবং খোলা আকাশের নিচে বাতাসের সাথে মিশে যেতে চান, তাহলে বিএমডব্লিউ জেড৪ আপনার জন্য একদম পারফেক্ট। এর মসৃণ রাইড, বিলাসবহুল কেবিন এবং টপ-ডাউন অনুভূতি আপনাকে প্রতিটি ড্রাইভে এক অন্যরকম শান্তি দেবে। জেড৪ যেন আপনাকে বলবে, “আরাম করো, আর পথটা উপভোগ করো!”
জীবনযাত্রার সাথে সামঞ্জস্য: কার সাথে আপনার মিল বেশি?
যদি আপনার জীবনযাত্রায় প্রতিদিনের কমিউট থাকে এবং মাঝেমধ্যে শখের জন্য স্পোর্টস কার চালানোর ইচ্ছা থাকে, তাহলে জেড৪ হয়তো আপনার জন্য বেশি উপযুক্ত হবে। এর আরামদায়ক রাইড এবং ব্যবহারিক ফিচারগুলো প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য বেশ ভালো। কিন্তু যদি আপনার এমন একটা গাড়ি দরকার হয় যা শুধুমাত্র ছুটির দিনে বা বিশেষ উপলক্ষে চালানো হবে এবং যা আপনাকে সর্বোচ্চ ড্রাইভিং আনন্দ দেবে, তাহলে সুপ্রা একটা দারুণ পছন্দ। শেষ পর্যন্ত, দুটো গাড়িরই নিজস্ব একটা আকর্ষণ আছে। আমার মনে হয়, গাড়ি কেনার আগে দুটোকেই একবার চালিয়ে দেখা উচিত, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন কার সাথে আপনার আত্মিক যোগ বেশি।
| বৈশিষ্ট্য | টয়োটা সুপ্রা (Toyota Supra) | বিএমডব্লিউ জেড৪ (BMW Z4) |
|---|---|---|
| ইঞ্জিন অপশন | ২.০ লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-৪, ৩.০ লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-৬ | ২.০ লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-৪, ৩.০ লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-৬ |
| ট্রান্সমিশন | ৮-স্পিড অটোমেটিক, (কিছু মডেল ম্যানুয়াল) | ৮-স্পিড অটোমেটিক, ৬-স্পিড ম্যানুয়াল অপশন |
| চালকের অনুভূতি | আরও আক্রমণাত্মক, স্পোর্টি এবং সরাসরি | মসৃণ, পরিশীলিত এবং আরামদায়ক |
| ডিজাইন | আক্রমণাত্মক, ফাস্টব্যাক, রেসিং অনুপ্রেরণা | মার্জিত, রোডস্টার, বিলাসবহুল |
| কেবিন | চালক-কেন্দ্রিক, স্পোর্টি সিট | বিলাসবহুল, আরামদায়ক সিট, উন্নত প্রযুক্তি |
| মূল লক্ষ্য | বিশুদ্ধ ড্রাইভিং আনন্দ, ট্র্যাক পারফরম্যান্স | খোলা আকাশের নিচে বিলাসবহুল ভ্রমণ, স্টাইল |
| আরাম | কম (শক্ত সাসপেনশন) | বেশি (নরম সাসপেনশন) |
| মূল্য পরিসীমা (আনুমানিক) | বিএমডব্লিউ জেড৪ এর চেয়ে সামান্য কম | টয়োটা সুপ্রার চেয়ে সামান্য বেশি |
রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচ: পকেটের উপর চাপ কেমন?
গাড়ি কেনার আগে অনেকেই এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন, আর স্পোর্টস কারের ক্ষেত্রে এই চিন্তাটা আরও বেড়ে যায়। সুপ্রা আর জেড৪ দুটোতেই যেহেতু বিএমডব্লিউ-এর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, তাই পার্টস এবং সার্ভিসিংয়ের ক্ষেত্রে একটা মিল অবশ্যই আছে। কিন্তু এখানে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে যা আপনার পকেটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রার পার্টস সাধারণত টয়োটা ডিলারশিপের মাধ্যমে পাওয়া যায়, যা কিছু ক্ষেত্রে বিএমডব্লিউ-এর মূল পার্টসের চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে, যেহেতু এটা একটা হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি, তাই এর বিশেষ পার্টসগুলোর দাম সাধারণ টয়োটার চেয়ে বেশি হবে, এটা নিশ্চিত। যেমন, টায়ারের দাম, ব্রেক প্যাড, এগুলো একটু বেশিই খরচসাপেক্ষ হবে।
পার্টস ও সার্ভিসের সহজলভ্যতা
বিএমডব্লিউ জেড৪ এর ক্ষেত্রে, আপনাকে বিএমডব্লিউ ডিলারশিপেই যেতে হবে। বিএমডব্লিউ-এর পার্টস বিশ্বজুড়ে সহজলভ্য, তবে এদের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। বিএমডব্লিউ-এর সার্ভিসিং খরচও টয়োটার চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ তারা প্রিমিয়াম সার্ভিসিং এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। আমার অভিজ্ঞতায়, টয়োটার সার্ভিসিং সেন্টারগুলো আরও বেশি গ্রাহকবান্ধব এবং তাদের কাজের গতিও বেশ ভালো। বিএমডব্লিউ সার্ভিস সেন্টারে সাধারণত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যেতে হয় এবং সার্ভিসিংয়ের জন্য একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তাই যারা দ্রুত সার্ভিসিং চান, তাদের জন্য এটা একটা বিষয় হতে পারে।
বিমা এবং জ্বালানি খরচ: দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
স্পোর্টস কারের বিমা খরচ সাধারণ গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি হয়, এটা একটা বাস্তবতা। সুপ্রা এবং জেড৪ দুটোতেই উচ্চ ক্ষমতার ইঞ্জিন থাকে বলে এদের বিমার প্রিমিয়াম বেশ বেশি হতে পারে। তবে, সুপ্রার বিমা খরচ জেড৪ এর চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে, কারণ বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের বিমা সাধারণত আরও বেশি হয়। জ্বালানি খরচও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুটো গাড়িতেই টার্বোচার্জড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রিমিয়াম ফুয়েল ব্যবহার করে। তাই মাইলেজ খুব বেশি আশা করা ঠিক হবে না। আপনার ড্রাইভিং স্টাইলের উপর নির্ভর করে মাইলেজ ভিন্ন হতে পারে, তবে স্পোর্টি ড্রাইভিং করলে জ্বালানি খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে। তাই কেনার আগে এই খরচগুলোও মাথায় রাখা জরুরি, যেন পরে কোনো অপ্রত্যাশিত ঝামেলায় না পড়তে হয়।
글을মাচি며
সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই, সুপ্রা আর জেড৪ দুটোই নিজ নিজ জায়গায় অসাধারণ। এদের তুলনা করাটা অনেকটা আপেল আর কমলালেবুর তুলনা করার মতো – দুটোই ফল, কিন্তু স্বাদ আর অনুভূতি একদমই ভিন্ন। কোনটা আপনার জন্য সেরা হবে, তা আসলে আপনার মনের ভেতরের চালকের উপর নির্ভর করে। আপনার ড্রাইভিং স্টাইল কী বলে, আপনার মন কী চায়, এই প্রশ্নগুলোই আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। আমার মনে হয়, জীবনে একবার হলেও এই দুটো গাড়ি চালিয়ে দেখা উচিত, তাহলেই সত্যিকারের অভিজ্ঞতাটা অর্জন করতে পারবেন, যা আপনাকে আপনার পছন্দের গাড়িটি বেছে নিতে অনেক সাহায্য করবে।
আলরাদুলে সুলমো এইনোটিন ফো
১. আপনার পছন্দের গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই একটি টেস্ট ড্রাইভ দিন। এতে গাড়ির আসল অনুভূতিটা বুঝতে পারবেন এবং আপনার ড্রাইভিং স্টাইলের সাথে তা কতটা মানানসই, তা পরখ করতে পারবেন।
২. গাড়ির দাম শুধু কেনার সময়কার খরচ নয়, এর সাথে রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা এবং জ্বালানি খরচও মাথায় রাখা জরুরি। একটি বাজেট তৈরি করে নিন, যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চাপ থেকে মুক্ত রাখবে।
৩. বিশেষ করে স্পোর্টস কারের ক্ষেত্রে, আফটারমার্কেট পার্টস এবং আপগ্রেডের সুযোগগুলো দেখে নিতে পারেন। সুপ্রা এই ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে, যা আপনার গাড়ির ব্যক্তিগতকরণে সাহায্য করবে।
৪. গাড়ির পুনঃবিক্রয় মূল্য বা রি-সেল ভ্যালু ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোন গাড়ি তার দাম বেশি ধরে রাখে, তা জেনে নিন, এতে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে।
৫. অনেক সময় ডিলারশিপে বিশেষ অফার বা প্যাকেজ থাকে, যা গাড়ির দাম কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কেনার আগে অবশ্যই ভালোভাবে দর কষাকষি করুন এবং সব অফার সম্পর্কে জেনে নিন।
জুনটো সাজা রিনি
বন্ধুরা, আমাদের এই দীর্ঘ আলোচনা শেষে কয়েকটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়ে যায়। টয়োটা সুপ্রা হলো সেই রোমাঞ্চপ্রিয় চালকদের জন্য যারা প্রতিটি ড্রাইভে তীব্র গতি আর খাঁটি স্পোর্টস কারের অভিজ্ঞতা চান। এর আক্রমণাত্মক ডিজাইন, সরাসরি স্টিয়ারিং আর শক্তিশালী পারফরম্যান্স আপনাকে একজন প্রকৃত চালক হিসেবে অনুভব করাবে। অন্যদিকে, বিএমডব্লিউ জেড৪ হলো তাদের জন্য যারা স্টাইল, আরাম আর বিলাসবহুল খোলা ছাদের অনুভূতিতে মোহিত হতে চান। এর মার্জিত ডিজাইন, মসৃণ রাইড এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রতিদিনের ব্যবহার বা দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটিকে আদর্শ করে তোলে। দুটো গাড়িরই নিজস্ব কিছু শক্তিশালী দিক আছে যা এদেরকে একে অপরের থেকে আলাদা করে। আপনার পছন্দ আসলে আপনার হৃদয়ের কথা শুনলে তবেই ঠিক হবে। একজন চালক হিসেবে, আমি বলব, দুটোই অসাধারণ, কিন্তু আপনার জীবনধারা আর আবেগ কোনটির সাথে বেশি মেলে, সেটিই আসল প্রশ্ন। কেনার আগে নিজের চাহিদাগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করুন এবং সিদ্ধান্ত নিন কোনটা আপনার স্বপ্ন পূরণ করবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: কেন টয়োটা সুপ্রা আর বিএমডব্লিউ জেড৪ কে এত তুলনা করা হয়, যখন দুটো প্রায় একই প্ল্যাটফর্মে তৈরি?
উ: আরে বাবা, এই প্রশ্নটা আমার কাছেও প্রথম দিকে খুব অদ্ভুত লাগতো! সত্যি বলতে কী, হ্যাঁ, টয়োটা সুপ্রা আর বিএমডব্লিউ জেড৪ এর অনেক কিছুই একই, বিশেষ করে ভেতরের মেকানিক্যাল অংশগুলো। দুটোই বিএমডব্লিউ-এর CLAR প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয়েছে এবং দুটোতেই একই 3.0-লিটার টার্বোচার্জড ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়। এমনকি ট্রান্সমিশনও একই ৮-স্পিড অটোমেটিক। এই জন্যই সবাই ভাবে, “আরে বাবা, নাম আলাদা হলেও তো মাল একই!” কিন্তু আসল ব্যাপারটা হলো, এই ‘একই মাল’ কে দুটো কোম্পানি একদম নিজেদের মতো করে টিউন করেছে, নিজেদের ব্র্যান্ড ফিলোসফি অনুযায়ী। টয়োটা চেয়েছিল সুপ্রা যেন একটা পিওর স্পোর্টস কারের অনুভূতি দেয়, যেখানে বিএমডব্লিউ জেড৪ কে আরও লাক্সারিয়াস রোডস্টার হিসেবে বানিয়েছে। তাই বাইরে থেকে দেখতে বা চালাতে গেলে দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন গাড়ি বলেই মনে হয়, যদিও তাদের ভেতরের অনেক যন্ত্রাংশ এক।
প্র: সুপ্রা এবং জেড৪ – এই দুটির মধ্যে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিতে আসল পার্থক্যটা কোথায়?
উ: আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদিও ইঞ্জিনের পাওয়ার ফিগার কাছাকাছি (জেড৪ M40i মডেলটি সুপ্রার চেয়ে কাগজে-কলমে কিছুটা বেশি হর্সপাওয়ার দাবি করে, তবে আসল পরীক্ষায় প্রায় একই পারফরম্যান্স দেখায়), কিন্তু চালানোর অনুভূতিটা একদমই আলাদা। সুপ্রা, আমার মতে, অনেক বেশি আগ্রাসী আর ট্র্যাক-ফোকাসড। এর সাসপেনশন বেশ টাইট, স্টিয়ারিং রেসপন্সও একদম সরাসরি, মনে হয় যেন গাড়িটা আপনার প্রতিটি নির্দেশ এক মুহূর্তেই শুনছে। কর্নারিং-এর সময় বডি রোল তুলনামূলক কম, আর হার্ড ব্রেকিং বা অ্যাক্সিলারেশনে এর “শার্পনেস” আপনাকে মুগ্ধ করবে। স্পোর্ট মোডে এর এক্সহস্টের গর্জন আর “পপস অ্যান্ড স্ন্যাপস” শুনেই রক্ত গরম হয়ে যায়।অন্যদিকে, জেড৪ তার ক্যারেক্টারে আরও বেশি পরিশীলিত আর আরামদায়ক। খোলা ছাদের রোমাঞ্চের কথা বাদ দিলেও, এর সাসপেনশন সুপ্রার চেয়ে নরম, তাই ভাঙা রাস্তায় বা দৈনন্দিন যাতায়াতে অনেক বেশি আরামদায়ক। স্টিয়ারিং সুপ্রার মতো অতটা তীক্ষ্ণ না হলেও, এটি আপনাকে আত্মবিশ্বাসী ড্রাইভিংয়ের সুযোগ দেবে। জেড৪ এর কেবিনটা সুপ্রার চেয়ে খোলামেলা মনে হয়, বিশেষ করে ছাদ খোলা থাকলে তো কথাই নেই!
এটা যেন একটা পারফেক্ট গ্র্যান্ড ট্যুরার, যেখানে আপনি লম্বা পথ আরামসে পাড়ি দিতে পারবেন, আর মন চাইলে একটু স্পিডেও চালাতে পারবেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, সুপ্রা যেখানে আপনাকে সবসময় রেসের কথা মনে করিয়ে দেবে, জেড৪ সেখানে আপনাকে বিলাসবহুলভাবে পথ চলার আনন্দ দেবে।
প্র: একজন স্পোর্টস কার প্রেমী হিসেবে, আমার ড্রাইভিং স্টাইল অনুযায়ী কোন গাড়িটা বেছে নেওয়া উচিত?
উ: এটা আসলে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে, বন্ধু! আমি তো দুটোই চালিয়ে দেখেছি, আর দুটোই নিজেদের জায়গায় সেরা। যদি আপনি এমন একজন হন যিনি গাড়িকে তার চরম সীমায় ঠেলে দিতে ভালোবাসেন, ট্র্যাক ডে-তে যেতে চান বা শহরের রাস্তায় তীব্র গতি আর আগ্রাসী লুকস দিয়ে সবার নজর কাড়তে চান, তাহলে টয়োটা সুপ্রা আপনার জন্য সেরা বিকল্প। এর কুপে ডিজাইন, লো সিটিং পজিশন আর সুনির্দিষ্ট হ্যান্ডলিং আপনাকে একজন সত্যিকারের ড্রাইভারের অনুভূতি দেবে। সুপ্রা একটু ‘বুনো’ ক্যারেক্টারের, যেটা চালককে সবসময় কিছু না কিছু উত্তেজনা দেয়。 আর এর দামও সাধারণত জেড৪-এর চেয়ে কম হয়, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।আর যদি আপনার পছন্দ একটু অন্যরকম হয়?
ধরুন, আপনি এমন একটি গাড়ি চান যা দেখতে আকর্ষণীয়, টপ-ডাউন রোমাঞ্চ দেবে, আর একই সাথে বিলাসবহুল ও আরামদায়ক হয়? তাহলে বিএমডব্লিউ জেড৪ আপনার জন্য একদম পারফেক্ট। এটি আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে চালানোর জন্য যথেষ্ট নমনীয়তা দেবে, কারণ এতে আরামদায়ক এবং ইকো প্রো-এর মতো একাধিক ড্রাইভিং মোড থাকে, যা সুপ্রাতে নেই। এটি একটি চমৎকার রোস্টার যা আপনি ছুটির দিনে লম্বা ড্রাইভের জন্য ব্যবহার করতে পারেন, অথবা শুধুমাত্র সুন্দর আবহাওয়ায় ছাদ খুলে রাস্তায় বের হয়ে হাওয়ায় ভেসে বেড়ানোর জন্য। জেড৪ কিছুটা বেশি পরিশোধিত এবং শান্ত প্রকৃতির, যা আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে গাড়ি চালাতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে যদি আপনি সুপ্রার ‘নার্ভাস’ অনুভূতিটা না চান। সংক্ষেপে, কাঁচা স্পোর্টস কারের মজা চাইলে সুপ্রা, আর স্টাইলিশ লাক্সারি ও উন্মুক্ত ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা চাইলে জেড৪।






